Skip to content

ইউনিয়ন পরিষদের সচিবের বেতন কত ২০২৬ সালে

বাংলাদেশের গ্রামীণ প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদ হলো ইউনিয়ন পরিষদ সচিব। প্রশ্ন আসতেই পারে – ইউনিয়ন পরিষদ সচিব এর বেতন ২০২৬ সালে কত? সরকারি গেজেট অনুযায়ী ইউনিয়ন সচিবের বেসিক বেতন ১০,২০০ টাকা থেকে ২৪,৬৮০ টাকা পর্যন্ত, সাথে বিভিন্ন ভাতা ও সুবিধা যুক্ত হয়।

আমি নিজে একজন গ্রামীণ পরিবেশে বড় হয়েছি। আমাদের ইউনিয়নে সচিবের সাথে কাজ করতে দেখেছি – তিনি শুধু কাগজপত্র সামলান না, মানুষের সুখ-দুঃখেরও অংশ হয়ে যান। তাই এই পদের বেতন ও সুবিধা নিয়ে সাধারণ মানুষের কৌতূহল থাকাই স্বাভাবিক।

ইউনিয়ন পরিষদ সচিব এর দায়িত্ব

একজন সচিব হলেন ইউনিয়ন পরিষদের প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা। তিনি জন্মনিবন্ধন, বিবাহনিবন্ধন, কর সংগ্রহ, সভার কার্যবিবরণী রক্ষণাবেক্ষণ এবং ইউনিয়নের সাধারণ নথি ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকেন। আমি দেখেছি, গ্রামে কারও জমি সংক্রান্ত সমস্যা হলে প্রথমেই সচিবের অফিসে যায়। তাই বলা যায়, তিনি জনগণ ও প্রশাসনের সেতুবন্ধন।

বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ সচিব এর বেতন কত

ইউনিয়ন পরিষদ সচিব এর বেতন নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। বর্তমান সরকারি বেতন কাঠামো অনুযায়ী সচিবের বেসিক বেতন ১০,২০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ ২৪,৬৮০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এর সাথে যোগ হয় বাড়িভাড়া ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা এবং অন্যান্য সরকারি সুবিধা।

উদাহরণস্বরূপ-

  • যদি কারও বেসিক বেতন ১৫,০০০ টাকা হয়
  • তার সাথে ৩০% বাড়িভাড়া ভাতা (৪,৫০০ টাকা)
  • চিকিৎসা ভাতা (১,৫০০ টাকা)
  • মোট বেতন দাঁড়াবে প্রায় ২১,০০০ টাকা

এভাবে ভাতা অনুযায়ী মাসিক আয় আরও বাড়ে।

ইউনিয়ন সচিব এর ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা

  • বাড়িভাড়া ভাতা
  • চিকিৎসা ভাতা
  • উৎসব ভাতা
  • অবসরের পর পেনশন সুবিধা
  • সরকারি ছুটি

আমার এক পরিচিত ইউনিয়ন সচিব বলেছিলেন – “বেতনের চেয়ে বড় পাওয়া হলো মানুষের ভালোবাসা।” কারণ, গ্রামাঞ্চলে সচিব মানেই সবার ভরসার জায়গা।

পূর্বের বেতনের সাথে তুলনা

২০১৫ সালের আগে ইউনিয়ন সচিবদের বেতন ছিল অনেক কম। একজন সচিব তখন মাত্র ৭,০০০-৮,০০০ টাকা বেতনে কাজ করতেন। ২০২১ সালে এটি কিছুটা বাড়ে। এখন ২০২৬ সালের স্কেলে বেতন তুলনামূলক অনেক উন্নত হয়েছে। তবে অনেক সচিব এখনও দাবি করছেন বেতন যেন আরও বাড়ানো হয়, কারণ দায়িত্ব অনেক বেশি।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পদবী সমূহ। বিস্তারিত জানতে এইখানে যান।

ইউনিয়ন সচিব পদে নিয়োগ ও যোগ্যতা

  • কমপক্ষে স্নাতক পাস
  • সরকারি চাকরির নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা
  • কম্পিউটার জ্ঞান থাকলে অগ্রাধিকার

আমার এক বড় ভাই নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “পরীক্ষা যেমন কঠিন, তেমনি প্রতিযোগিতাও অনেক বেশি।” কারণ গ্রামের ছেলেমেয়েরা এই চাকরিকে খুবই নিরাপদ মনে করে।

ইউনিয়ন সচিব এর পদোন্নতি

যদিও পদোন্নতির সুযোগ সীমিত, তবুও অভিজ্ঞতা ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে উন্নতির সুযোগ রয়েছে। কিছু সচিব পরবর্তীতে উপজেলা পর্যায়ের প্রশাসনিক কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান।

ইউনিয়ন সচিব এর চ্যালেঞ্জ

  • জনগণের অসংখ্য সমস্যা মোকাবিলা করতে হয়
  • আইনি কাগজপত্রে ভুল হলে জবাবদিহি করতে হয়
  • মাঝে মাঝে রাজনৈতিক চাপ সামলাতে হয়

আমি একবার আমাদের ইউনিয়নের সচিবকে দেখেছিলাম রাত ১১টা পর্যন্ত অফিসে বসে কাগজপত্র তৈরি করতে। তখন বুঝেছিলাম, এই চাকরি যতটা সম্মানজনক, ততটাই কষ্টসাধ্য।

আমার শেষ পরামর্শ

ইউনিয়ন পরিষদ সচিব এর বেতন শুধু একটি সংখ্যার বিষয় নয়। এটি গ্রামীণ প্রশাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একজন মানুষের জীবনযাত্রার প্রতিফলন। এই পদে যারা কাজ করেন, তারা গ্রামের প্রতিটি মানুষকে সেবা দেন। তাদের প্রতি সম্মান জানানো এবং বেতন কাঠামো আরও উন্নত করা সময়ের দাবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *