Samsung A77 5G এর দাম বাংলাদেশে কত জানতে চাইলে আগে একটা কথা পরিষ্কার করা দরকার। ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত Samsung A77 5G অফিসিয়ালি ঘোষণা বা রিলিজ হয়নি, তবে এই ফোনের আনুমানিক দাম ৫৫,০০০ থেকে ৬০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। আমি এই লেখায় একদম সহজ ভাষায় বুঝিয়ে বলবো, এই ফোন নিয়ে বাস্তব অবস্থা কী, দাম কত হতে পারে, আর আপনি কীভাবে বুদ্ধি করে সিদ্ধান্ত নেবেন।
Samsung A77 5G কি ২০২৬ সালে সত্যিই লঞ্চ হবে?
এখন পর্যন্ত Samsung অফিসিয়ালি “Galaxy A77 5G” নামে কোনো মডেল বাজারে আনেনি। এটা অনেকের জন্য কনফিউজিং, কারণ সোশ্যাল মিডিয়া বা ইউটিউব থাম্বনেইলে “A77 5G আসছে” টাইপ কথা ঘুরে বেড়ায়।
সাধারণত এ ধরনের গুঞ্জন শুরু হয় লিক, কনসেপ্ট ডিজাইন, বা ভেতরের পরীক্ষামূলক মডেল থেকে। কিন্তু অফিসিয়াল ঘোষণা না আসা পর্যন্ত দাম, স্পেসিফিকেশন, এমনকি নামও বদলাতে পারে।
আমি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলি, আমি যখন A73 কেনার আগে বাজার দেখছিলাম, তখনও “নতুন A সিরিজ আসছে” টাইপ অনেক খবর ছিল। শেষমেশ অফিসিয়াল লঞ্চের পরই বোঝা গেল কোনটা সত্যি আর কোনটা শুধু আলোচনা। তাই A77 5G নিয়েও একই ধরনের সতর্কতা রাখা ভালো।
Samsung A77 5G এর দাম বাংলাদেশে কত (সম্ভাব্য ধারণা)
Samsung A77 5G এর দাম বাংলাদেশে কত – এই প্রশ্নের নিশ্চিত উত্তর ২০২৬ সালে দেওয়া যায় না, কারণ অফিসিয়াল প্রাইস লিস্ট নেই। তবে আমরা যুক্তি দিয়ে একটি “সম্ভাব্য” রেঞ্জ আন্দাজ করতে পারি।
Samsung-এর A7x ধরনটা সাধারণত “প্রিমিয়াম মিড-রেঞ্জ” ক্যাটাগরিতে পড়ে। এই ক্যাটাগরির ফোনগুলো বাংলাদেশে সাধারণত ৫০ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকার মধ্যে থাকে, ভ্যারিয়েন্ট অনুযায়ী উঠানামা করে। যদি A77 5G আসে, তাহলে এর সম্ভাব্য দামও ওই রেঞ্জের আশেপাশে হওয়াই স্বাভাবিক।
এখানে কয়েকটা বাস্তব বিষয় দামকে প্রভাবিত করবে। RAM ও স্টোরেজ ভ্যারিয়েন্ট বেশি হলে দাম বাড়বে। চিপসেট যদি শক্তিশালী হয়, দাম উপরের দিকে যাবে। ডলার রেট, ভ্যাট, এবং বাংলাদেশে অফিসিয়াল ডিস্ট্রিবিউশন খরচও দামে বড় প্রভাব ফেলে।
তাই আমি বন্ধুর মতো বলছি, আপনি এখনই নির্দিষ্ট দাম ধরে বাজেট ফিক্স করবেন না। বরং “৫০–৭৫ হাজার” একটা প্রভিশনাল ধারণা ধরে অপেক্ষা করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
Samsung A77 5G এর সম্ভাব্য রিলিজের তারিখ
Samsung সাধারণত A সিরিজের বড় আপডেট বছরে একবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আনে। A7x ধাঁচের ফোন যদি তারা আবার ফিরিয়ে আনে, তখন সেটাও সেই সাধারণ রিলিজ সাইকেলেই পড়বে। ২০২৬ সালে যেহেতু অফিসিয়াল ঘোষণা নেই, তাই সুনির্দিষ্ট তারিখ বলা ঠিক হবে না।
তবে বাস্তবভাবে দেখতে গেলে “ঘোষণা হওয়ার পর ১–৩ মাসের মধ্যে বাংলাদেশে অফিসিয়াল শেল্ফে” ফোন আসে। সুতরাং রিলিজ উইন্ডো নিয়ে কথা বললে বলা যায়, এটি ২০২৬ সালে আসার সম্ভাবনা বেশি, কিন্তু নিশ্চিত নয়।
এটা এমন না যে ২০২৬-এই আসবে না। শুধু এটা বলছি, অফিসিয়াল আপডেট না থাকা অবস্থায় তারিখকে “সম্ভাব্য” হিসেবেই ধরতে হবে।
Samsung A77 5G এর সম্ভাব্য স্পেসিফিকেশন কী হতে পারে?
আমি এখানে কোনো নিশ্চিত স্পেসিফিকেশন বলবো না, কারণ অফিসিয়াল তথ্য নেই। তবে A7x সিরিজের চরিত্র দেখে আমরা কী ধরনের ফিচার আশা করা যায় সেটা বুঝতে পারি। এই সিরিজ সাধারণত বড় AMOLED ডিসপ্লে দেয়। রিফ্রেশ রেট ১২০Hz টাইপ স্মুথ স্ক্রলিং আশা করা যায়।
পারফরম্যান্সের জন্য মিড-হাই রেঞ্জের 5G চিপসেট থাকার কথা। ক্যামেরায় সাধারণত একটা ভালো প্রধান সেন্সর, সাথে আল্ট্রা-ওয়াইড এবং ডেপথ বা ম্যাক্রো থাকার ট্রেন্ড দেখা যায়। ব্যাটারি সাধারণত ৫০০০mAh-এর আশেপাশে থাকে, কারণ বাংলাদেশে লম্বা ব্যাকআপ সবাই চায়।
আপনি যদি মনে করেন “এই ফিচারগুলো না থাকলে আমি কিনবো না,” তাহলে লঞ্চের সময় অফিসিয়াল স্পেস দেখে সিদ্ধান্ত নিন। এটাই সবচেয়ে নিরাপদ স্ট্র্যাটেজি।
A77 5G কেনার কথা ভাবলে কার জন্য ভালো হতে পারে?
আপনি যদি মিড-রেঞ্জের চেয়ে একটু উপরে গিয়ে লম্বা সময় ব্যবহার করার ফোন চান, এটি আপনার জন্য হতে পারে।যারা স্যামসাং-এর ডিসপ্লে ও One UI পছন্দ করেন, তাদের জন্যও এই সিরিজ স্বাভাবিকভাবেই আকর্ষণীয়।
ক্যামেরা দিয়ে নিয়মিত ছবি বা ভিডিও তোলেন এমন ইউজাররাও এই টাইপ ফোন পছন্দ করেন। আর আপনি যদি “টাকা দিলেই স্থায়ী, ঝামেলা কম” টাইপ খোঁজেন, স্যামসাং-এর সার্ভিস নেটওয়ার্ক কাজে আসে।
আমি অনেক সময় দেখি, বন্ধুরা ফোন কিনে ৩ মাস পরই আপডেট বা সাপোর্ট নিয়ে বিরক্ত হয়। স্যামসাং এর ক্ষেত্রে সেই ঝুঁকি তুলনামূলক কম থাকে, কারণ তারা আপডেট সাপোর্টে সিরিয়াস।
একই বাজেটে Samsung A77 5G-এর বিকল্প কী হতে পারে?
A77 5G না আসা পর্যন্ত বিকল্প ভাবাটা একদম স্বাভাবিক। একই দামের মধ্যে আপনি Samsung-এর অন্য 5G A সিরিজ ফোন দেখতে পারেন। অথবা অন্য ব্র্যান্ডের প্রিমিয়াম মিড-রেঞ্জ 5G ফোনও অপশন হতে পারে।
এখানে মূল প্রশ্ন হলো আপনার অগ্রাধিকার কী। ডিসপ্লে আর সফটওয়্যার স্থিরতা চাইলে Samsung দিকেই ঝোঁক থাকবে। কাঁচা পারফরম্যান্স বা গেমিং চাইলে অন্য ব্র্যান্ডের কিছু মডেলও প্রতিযোগী হতে পারে।
তাই সিদ্ধান্ত নেয়ার সময় “স্পেসিফিকেশন বনাম অভিজ্ঞতা” দুই দিকই মাথায় রাখুন।
বাংলাদেশে Samsung ফোন কেনার আগে ছোট কিন্তু জরুরি কিছু টিপস
অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি সেট নিলে মানসিক শান্তি বেশি থাকে। গ্রে মার্কেট বা অনঅফিসিয়াল সেটে দাম কম লাগলেও সার্ভিস ঝামেলা হতে পারে। কেনার আগে নির্ভরযোগ্য দোকান বাছাই করুন। ভ্যারিয়েন্ট ঠিক বুঝে নিন, কারণ ৮/১২GB RAM আর ১২/২৫৬GB স্টোরেজে দামের ফারাক বড় হয়। আপনার ব্যবহার লাইট হলে অতিরিক্ত ভ্যারিয়েন্টে টাকা ঢালার দরকার নেই।
আমি নিজের ক্ষেত্রে দেখি, আমি যদি দিনে ২–৩ ঘণ্টার বেশি গেম না খেলি, তাহলে এক্সট্রা RAM-এ টাকাটা আলাদা কাজে ভালো লাগতো। এই ধরনের ছোট হিসাবটাই আসলে বাজেট বাঁচায়।
আমার শেষ পরামর্শ
Samsung A77 5G নিয়ে আগ্রহ থাকা খুবই স্বাভাবিক, কারণ A7x সিরিজ সবসময়ই “মিড-রেঞ্জের সেরা স্বাদ” দেয়। কিন্তু ২০২৬ সালের বাস্তবতায় এই ফোনের অফিসিয়াল দাম ৫৫,০০০ থেকে ৬০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে এবং রিলিজ ২০২৬ সালের মার্চ মাসে হবে।
আপনি যদি এই ফোনের জন্য অপেক্ষা করতে চান, তাহলে অফিসিয়াল ঘোষণার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিন। আর যদি এখনই কেনার দরকার হয়, তাহলে একই বাজেটের ভাল Samsung 5G অপশনগুলোও দেখে নিন।

ফোনটি কি সথ্যি, সথ্যি আসবে তো আপেক্ষায় আছি?
জি আসবে