বাংলাদেশে টাইফয়েড টিকা রেজিস্ট্রেশন নিয়ে দেশের লাখো অভিভাবকের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। টাইফয়েড টিকা রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়েছে ১ আগস্ট ২০২৫ থেকে এবং টিকা কার্যক্রম শুরু হবে ১২ অক্টোবর ২০২৫ থেকে।
কেন টাইফয়েড টিকা জরুরি
টাইফয়েড এমন এক ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ যা দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে ছড়ায়। আমি নিজে ছোটবেলায় টাইফয়েডে ভুগেছিলাম, তাই বুঝি এটি কত কষ্টদায়ক। তীব্র জ্বর, মাথাব্যথা, শরীরে দুর্বলতা সব মিলিয়ে রোগীকে সম্পূর্ণ ভোগান্তিতে ফেলে দেয়।
একজন অভিভাবক হিসেবে আমি চাই না আমার সন্তানকে এই কষ্ট সহ্য করতে হোক। এই কারণেই টাইফয়েড টিকা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
টাইফয়েড টিকা রেজিস্ট্রেশন কারা পাবে
এই ক্যাম্পেইনে ৯ মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশু ও কিশোররা টিকা নিতে পারবে। যদি বাচ্চা স্কুলে পড়ে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিদ্যালয় থেকেই টিকা দেওয়া হবে। কিন্তু যারা স্কুলে যায় না, তাদের জন্য রয়েছে EPI কেন্দ্র এবং স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র। আমার এক আত্মীয়ের সন্তান স্কুলে ভর্তি হয়নি, তিনি মোবাইল নম্বর দিয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রেজিস্ট্রেশন করে নিয়েছেন।
কবে থেকে রেজিস্ট্রেশন শুরু হলো
সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী অনলাইন রেজিস্ট্রেশন শুরু হয়েছে ১ আগস্ট ২০২৫ থেকে। মূল টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে ১২ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে। পুরো ক্যাম্পেইন চলবে ১৮ কার্যদিবস। প্রথম ১০ দিন শুধুমাত্র স্কুলে টিকাদান হবে, এরপর ৮ দিন EPI কেন্দ্র ও অস্থায়ী টিকা কেন্দ্রে দেওয়া হবে।
স্নায়ু রোগের লক্ষণ গুলো কি কি। বিস্তারিত জানতে চাইলে এইখানে যান।
কোথায় এবং কিভাবে রেজিস্ট্রেশন করবেন
১. অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান: vaxepi.gov.bd/registration/tcv
২. শিশুর জন্ম নিবন্ধন নম্বর (১৭ সংখ্যা), জন্ম তারিখ, লিঙ্গ এবং মোবাইল নম্বর দিন।
৩. যদি জন্ম নিবন্ধন না থাকে, স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন।
৪. সফল রেজিস্ট্রেশনের পর একটি ভ্যাকসিন কার্ড পাবেন, যা টিকা নেওয়ার সময় অবশ্যই সঙ্গে রাখতে হবে।
টাইফয়েড টিকা নেওয়ার উপকারিতা
- শিশুকে টাইফয়েড থেকে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা দেয়।
- পরিবারের আর্থিক খরচ বাঁচায় (চিকিৎসার খরচ অনেক বেশি)।
- শিশুদের স্কুলে নিয়মিত যেতে সহায়তা করে।
- জাতীয় পর্যায়ে টাইফয়েড সংক্রমণ কমাতে সাহায্য করে।
আমার এক বন্ধু বলছিলেন, তার মেয়ের আগেও দু’বার টাইফয়েড হয়েছিল। তিনি এবার ক্যাম্পেইনে প্রথমেই রেজিস্ট্রেশন করেছেন, কারণ আগের কষ্ট আর দেখতে চান না।
আমার শেষ পরামর্শ
টাইফয়েড টিকা রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম দেশের শিশুদের স্বাস্থ্য রক্ষায় এক বিশাল উদ্যোগ। একজন অভিভাবক হিসেবে আমি মনে করি, আমাদের প্রত্যেকেরই দায়িত্ব এই ক্যাম্পেইনে সন্তানকে অন্তর্ভুক্ত করা। আজই রেজিস্ট্রেশন করুন, কারণ এটি শুধু আপনার সন্তানের নয় পুরো সমাজের সুস্থ ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
টাইফয়েড টিকা রেজিস্ট্রেশন নিয়ে প্রশ্নোত্তর
টিকা নেওয়ার জন্য কি জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক?
না, জন্ম নিবন্ধন না থাকলেও স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা যাবে।
যারা স্কুলে যায় না তারা কি টিকা পাবে?
হ্যাঁ, তারা নিকটস্থ EPI কেন্দ্র থেকে টিকা নিতে পারবে।
অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করতে না পারলে কী করব?
নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন, তারা সাহায্য করবে।
টাইফয়েড টিকার কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কি?
সাধারণত টিকা নেওয়ার পর হালকা জ্বর বা ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা হতে পারে, তবে এটি স্বাভাবিক এবং দ্রুত সেরে যায়।
